সংবাদ শিরোনাম:
সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান নারীর চিৎকার শুনে ছুটলেন সার্জেন্ট, ছিনতাইকারী আটক করে উদ্ধার করলেন মোবাইল পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মৌলভীবাজার পৌর কমিটি গঠন,চন্দন রায় সভাপতি, পাপন সম্পাদক বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও দেশীয় সংস্কৃতির দুর্দিন রাজৈরে সেকান্দার আলির হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন, ১৪ আসামি খালাস কমলগঞ্জে সীরাত সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে KSRM রডের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজনগর চা বাগানে ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি, ভূমির অধিকার ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ লতিফিয়া ইসলামী যুব সংঘের উদ্যোগে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা:)মাহফিল সম্পন্ন মাদারীপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবা সহ ১ যুবক গ্রেফতার
কমলগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়ে তুমুল বিতর্ক

কমলগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়ে তুমুল বিতর্ক

আব্দুল বাছিত খান,মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি’র জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া একজনকে সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পর গত ৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার, সদস্য-সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউসুফ মিঞা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রকিবুল হক তালিকায় যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।

ফলাফল প্রকাশের পর কয়েকজন বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপে কাজের অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগও তুলেছেন।শরীফ মোয়াজ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া একজন ব্যক্তিকে সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানান।এম এ জুলফিকার আলী নামে এক প্রার্থীও ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, আদমশুমারি, খানাশুমারি, জনশুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারিসহ বিভিন্ন জাতীয় জরিপে গণনাকারী ও সুপারভাইজার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা এবং একাধিক অভিজ্ঞতার সনদ থাকার পরও তাকে মূল তালিকায় রাখা হয়নি। তাকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, সেমিম আহমদ হাসানী নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি সুপারভাইজার পদে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিতদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে তিনি দাবি করেন।

সেমিম আহমদ হাসানী আরও দাবি করেন, অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা একজন নারী প্রার্থীও পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষাস্থল ত্যাগ করেছিলেন। তার মতে, এসব অভিযোগ যাচাই করে নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ফুলবাড়ি চা-বাগানসহ কয়েকটি এলাকা থেকে ফলাফল নিয়ে একই ধরনের বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন প্রার্থী। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী বিভিন্ন জাতীয় জরিপে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাননি।

বঞ্চিত প্রার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচন করা হলে ফলাফল নিয়ে এত প্রশ্ন উঠত না। তারা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার। তিনি বলেন, “আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই পুরো শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিভিত্তিক কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com
error: Content is protected !!